প্রায় সব দম্পতিই বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু কারও কারও জন্য এই পথটা সহজ হয় না। ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বিশ্বজুড়ে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই গর্ভধারণের জন্য ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছেন। আধুনিক এই চিকিৎসাপদ্ধতি অনেক দম্পতির জীবনে আশার আলো এনেছে।
আইভিএফ এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে পরীক্ষাগারে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে সেই ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
তবে আইভিএফ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা রয়েছে। আইভিএফ-এর সাফল্যের হার কত? বয়স, স্থূলতা, ধূমপান বা মানসিক চাপ কতটা প্রভাব ফেলে? এই পদ্ধতিতে কি সবসময় যমজ বা ট্রিপলেট সন্তানের জন্ম হয়?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে—কোন পরিস্থিতিতে আইভিএফ প্রয়োজন হয়।
বিজ্ঞান, ধৈর্য ও বাস্তবতা
আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নেওয়ার আগে বন্ধ্যাত্বের কারণ সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে নারী ও পুরুষ—উভয়ের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
কিছু নারীর ক্ষেত্রে ফ্যালোপিয়ান টিউবে সমস্যা থাকতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস কিংবা বয়স বেড়ে যাওয়াও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এন্ডোমেট্রিওসিসে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়। এটি সাধারণত ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং শ্রোণী অঞ্চলের টিস্যুকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া, শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে যাওয়া কিংবা শুক্রাণুর গুণগত মানের সমস্যা থেকেও বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।
তাই বন্ধ্যাত্বকে শুধু নারীর সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। নারী ও পুরুষ—দুজনের স্বাস্থ্যের সঙ্গেই এর সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেরিতে করা হয়। এতে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয় এবং চিকিৎসার সময় ও খরচ—দুটিই বাড়তে পারে।
আইভিএফ প্রাকৃতিক গর্ভধারণ থেকে কতটা আলাদা?
স্বাভাবিক গর্ভধারণে সাধারণত নারীর শরীরের ভেতরে ফ্যালোপিয়ান টিউবেই ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটে।
আইভিএফ পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়াটি পরীক্ষাগারে সম্পন্ন করা হয়। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শুক্রাণুর সঙ্গে নিষেক ঘটানো হয়। এরপর তৈরি হওয়া ভ্রূণ কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রেখে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
কখন আইভিএফ-এর পরামর্শ দেওয়া হয়?
সাধারণত এক বছর নিয়মিত চেষ্টা করার পরও স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ছয় মাস চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া—
- ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে
- পুরুষের গুরুতর বন্ধ্যাত্ব থাকলে
- বন্ধ্যাত্বের কারণ স্পষ্ট না হলে
- অন্যান্য চিকিৎসার পরও গর্ভধারণ সফল না হলে
আইভিএফ-এর প্রয়োজন হতে পারে।
কখন আইভিএফ প্রয়োজন?
বন্ধ্যাত্বের কারণ নারী ও পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ দুজনেরই সমস্যা থাকে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
আইভিএফ প্রয়োজন হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো—
- ফ্যালোপিয়ান টিউবের প্রতিবন্ধকতা বা ক্ষতি
- ডিম্বাণু নিঃসরণে সমস্যা
- এন্ডোমেট্রিওসিস
- বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা বা গুণগত মান কমে যাওয়া
- শুক্রাণুর সংখ্যা বা গতিশীলতা কমে যাওয়া
- জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা পলিপের মতো সমস্যা
- পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও বন্ধ্যাত্বের সুস্পষ্ট কারণ না পাওয়া
আইভিএফ পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপ
প্রথম ধাপ — ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করা
স্বাভাবিকভাবে একটি ডিম্বাণুর পরিবর্তে একাধিক ডিম্বাণুর বিকাশ ঘটানোর জন্য সাধারণত ৮ থেকে ১২ দিন হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়। আল্ট্রাসাউন্ড ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপ — ডিম্বাণু সংগ্রহ
ডিম্বাণুগুলো পরিপক্ব হলে একটি ‘ট্রিগার’ ইনজেকশন দেওয়া হয়। সাধারণত এর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মৃদু অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।
তৃতীয় ধাপ — নিষেক
ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটানো হয়। শুক্রাণুর গুণমানের ওপর নির্ভর করে প্রচলিত আইভিএফ অথবা আইসিএসআই (ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন) পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।
আইসিএসআইতে একটি সুস্থ শুক্রাণু সরাসরি একটি পরিপক্ব ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
চতুর্থ ধাপ — ভ্রূণের বিকাশ
নিষিক্ত ডিম্বাণু পরীক্ষাগারে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এ সময় ভ্রূণের বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পঞ্চম ধাপ — ভ্রূণ প্রতিস্থাপন
একটি পাতলা ক্যাথেটারের সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে একাধিক ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হতে পারে।
ষষ্ঠ ধাপ — গর্ভাবস্থা পরীক্ষা
ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভধারণ হয়েছে কি না তা নির্ণয় করা হয়।
আইভিএফ-এ মা বা শিশুর ঝুঁকি আছে?
আইভিএফ চিকিৎসার সময় কিছু নারীর সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন—
- পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং
- মুড পরিবর্তন
- ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে হালকা অস্বস্তি
কিছু নারীর ক্ষেত্রে ওভারি হাইপারস্টিমুলেশন সিন্ড্রোম (OHSS) দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় ডিম্বাশয় ফুলে যেতে পারে এবং শরীরে তরল জমতে পারে। তবে চিকিৎসার সময় রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া যায়।
শিশুর ক্ষেত্রে কী ঝুঁকি রয়েছে?
আইভিএফের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই সুস্থ থাকে। তবে স্বাভাবিক গর্ভধারণের তুলনায় সময়ের আগে সন্তান জন্মানো বা শিশুর জন্ম ওজন কম হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে।
তবে এসব ঝুঁকি শুধু আইভিএফ-এর কারণে নয়; একাধিক গর্ভধারণ এবং বন্ধ্যাত্বের অন্তর্নিহিত কারণগুলোর সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
আইভিএফ-এর সাফল্যের হার কতটা?
আইভিএফের সাফল্যের হার সবার ক্ষেত্রে এক নয়। এটি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
প্রধান বিষয়গুলো হলো—
- নারীর বয়স — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। বিশেষ করে ৩৫ বছরের পর এবং আরও বেশি বয়সে সাফল্যের সম্ভাবনা কমতে পারে।
- ডিম্বাশয়ের সক্ষমতা
- শুক্রাণুর গুণমান
- জরায়ু ও হরমোনের স্বাস্থ্য
- ভ্রূণের গুণমান
- বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ
আইভিএফ-এ কি সবসময় যমজ বা ট্রিপলেটের জন্ম হয়?
এটি আইভিএফ নিয়ে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা।
আগে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য একাধিক ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হতো। ফলে যমজ বা একাধিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল।
কিন্তু আধুনিক ভ্রূণ নির্বাচন ও চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নতির ফলে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ভ্রূণই জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।
ফলে বর্তমানে আইভিএফ করলেই যে যমজ বা ট্রিপলেট সন্তান হবে—এমনটা নয়।
গর্ভধারণে দেরি হলে কি আইভিএফ-এর প্রয়োজন বাড়ে?
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে পারে। বর্তমানে অনেকেই ক্যারিয়ার, শিক্ষা, আর্থিক প্রস্তুতি কিংবা উপযুক্ত জীবনসঙ্গী নির্বাচনের কারণে তুলনামূলক দেরিতে বাবা-মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে ৩৫ বছর বয়স হলেই প্রজনন ক্ষমতা হঠাৎ শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রজনন ক্ষমতার পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটে এবং ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য রয়েছে।
সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর প্রজনন ক্ষমতা কমতে শুরু করতে পারে। ৩৪ বছর বয়সের কাছাকাছি এ পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হতে পারে এবং ৪০ বছরের পর তা দ্রুত কমতে পারে।
তবে বয়স একমাত্র বিষয় নয়। কম বয়সী নারীরও ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক, এন্ডোমেট্রিওসিস, ডিম্বাণু নিঃসরণে সমস্যা বা পুরুষের প্রজনন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গর্ভধারণে অসুবিধা হতে পারে।
গর্ভধারণে দেরি হলেই কি আইভিএফ দরকার?
না। অনেক নারী তুলনামূলক বেশি বয়সেও স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন এবং তাদের কখনো আইভিএফ-এর প্রয়োজন হয় না।
কিছু ক্ষেত্রে সহবাসের সময় নির্ধারণ, থাইরয়েড বা ডিম্বাণু নিঃসরণ-সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসা কিংবা ইন্ট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI)-এর মতো তুলনামূলক সহজ চিকিৎসাই যথেষ্ট হতে পারে।
আইভিএফ সাধারণত তখনই বিবেচনা করা হয়, যখন নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা অথবা অন্যান্য চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা কম।
তবে আইভিএফকে কোনো ‘টাইম মেশিন’ হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আইভিএফ করালেই গর্ভধারণ নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
কিছু রোগীর একাধিকবার আইভিএফের প্রয়োজন হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ডোনার ডিম্বাণুর প্রয়োজনও হতে পারে।
বন্ধ্যাত্ব কি শুধু নারীদের সমস্যা?
না। পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গুণমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই গর্ভধারণে সমস্যা হলে শুধু নারীর পরীক্ষা না করে নারী ও পুরুষ—দুজনেরই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে অণ্ডকোষের অস্ত্রোপচার, সংক্রমণ, অণ্ডকোষ নিচে না নামা, কেমোথেরাপি কিংবা যৌন সমস্যার ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দুজনকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সঠিক কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আইভিএফ-এর আগে ও পরে জীবনযাত্রায় কী পরিবর্তন দরকার?
আইভিএফ চিকিৎসা শুরু করার আগেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
- সুষম খাবার খাওয়া
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
- ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা
- মদ্যপান এড়িয়ে চলা বা সীমিত করা
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসা শুরু করার আগে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খাওয়া এবং নির্ধারিত পরীক্ষা ও ফলোআপ যথাসময়ে করা গুরুত্বপূর্ণ।
আইভিএফ শুধু একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়; অনেক দম্পতির জন্য এটি আবেগ ও প্রত্যাশায় ভরা একটি দীর্ঘ যাত্রা। হরমোন ইনজেকশন, বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, স্ক্যান এবং ফলাফলের জন্য অপেক্ষা—সব মিলিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাই শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি। দম্পতিরা পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে পারেন।
ভারতে আইভিএফ করতে কত খরচ?
আইভিএফ-এর খরচ চিকিৎসাকেন্দ্র, রোগীর অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
উৎসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে একটি আইভিএফ চক্রের গড় খরচ প্রায় দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ রুপি। তবে চিকিৎসাকেন্দ্র ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এই খরচ কমবেশি হতে পারে।
এর বাইরে প্রজনন-সংক্রান্ত ওষুধ, আইসিএসআই, ভ্রূণ হিমায়িতকরণ ও সংরক্ষণ এবং কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
কিছু দম্পতির একাধিক আইভিএফ চক্রের প্রয়োজন হতে পারে। তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে সম্ভাব্য মোট খরচ এবং অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে কি না—এসব বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।
আধুনিক আইভিএফ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
গত কয়েক বছরে আইভিএফ চিকিৎসায় প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কিছু উন্নতি হয়েছে।
ভ্রূণ প্রতিপালনের উন্নত কৌশল, ব্লাস্টোসিস্ট ট্রান্সফার, ভিট্রিফিকেশন বা দ্রুত ভ্রূণ হিমায়িতকরণ এবং উন্নত পরীক্ষাগার সুবিধা চিকিৎসাকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করছে।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রি-ইমপ্ল্যান্টেশন জেনেটিক টেস্টিং (PGT) ব্যবহার করে ভ্রূণের নির্দিষ্ট কিছু জিনগত ত্রুটি শনাক্ত করা সম্ভব।
তবে কোন রোগীর ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য, বন্ধ্যাত্বের কারণ ও অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
শেষ কথা
আইভিএফ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদ্ধতি। তবে এটি সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং আইভিএফ করলেই যমজ বা ট্রিপলেট সন্তান হবে—এমন ধারণাও সঠিক নয়।
বন্ধ্যাত্বের কারণ নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই থাকতে পারে। তাই গর্ভধারণে সমস্যা হলে শুধু একজনের চিকিৎসা না করে দুজনেরই যথাযথ মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বয়স, শারীরিক অবস্থা, বন্ধ্যাত্বের কারণ এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া।