ফাইল ছবি

দেশে বর্ষাকালে যত্রতত্র জলাবদ্ধতার জেরে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রকট হতে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৩৯১ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৬৬ জনে, যা চলতি মাস এমনকি চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড। এর আগে জুনে হাসপাতালে ভর্তি হয় দুই হাজার ৯০৭ জন। এতদিন এটিই ছিল সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাঁচ বছরের মেয়ে শিশু এবং ৪৬ থেকে ৫০ বছরের একজন পুরুষ। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু হলো। গত জুনে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গুর সংক্রমণবিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৩৭০ জন। যার মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে তিন হাজার ২৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

অন্যদিকে মৃত্যুর তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রবণতা কম দেখা গেলেও জুন থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে কারও মৃত্যু হয়নি। এরপর জুনে ১৩ এবং চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে মারা গেছেন ১২ জন।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চলতি বছর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে, যা সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। মশা ও এর আবাসস্থল ধ্বংসে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের অপর্যাপ্ত উদ্যোগ আর উদাসীনতা এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইডিং এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

জুলাই মাসের অন্যান্য খবর

জুলাই মাসে স্বাস্থ্য খাতে প্রধান আলোচনার বিষয় হলো ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং হামের প্রাদুর্ভাব। সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর ব্যাপক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি
  • আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড: চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে ৩ হাজার ২৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা বছরের সর্বোচ্চ।
  • স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সতর্কতা: জুলাই ও আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • প্রস্তুতি: ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং মশক নিধনের জন্য পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বন্যাকবলিত অঞ্চলে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা
  • ছুটি বাতিল: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জেলার (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
  • সাপের কামড় ও অন্যান্য রোগ: সাপে কাটা রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে এবং গর্ভবতী ও শিশুদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব
  • আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা: সারা দেশে হামের প্রকোপ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ২৪ ঘণ্টাতেই ৯০০ জনেরও বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা ৭৭১ ছাড়িয়েছে।
  • ব্যবস্থাপনা: আক্রান্তদের চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে।