আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে প্রায় বিভিন্ন দেশের ২৫ কোটি পরিবার তাদের শিশুদের দেয়া খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, পেরু ও নাইজেরিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের পরিবারের উপর চালানো গবেষণার ভিত্তিতে এই তথ্য দিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন।
সংস্থাটি আরও বলছে আগামি ১৫ বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ কোটি শিশুর খাদ্যের অভাবের কারণে শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের ওজনের তুলনায় উচ্চতা কমে যাবে।
সংস্থাটির বাংলাদেশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে পুষ্টি বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রকাশিত গবেষণার তথ্যের উপর ভিত্তি করেই তাদের এই প্রতিবেদন। সংগঠনটি অবশ্য জানিয়েছে গত এক দশকের তুলনামূলক চিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে শিশুদের পুষ্টির হার বেশ ভাল, তবে তার অগ্রগতি যথেষ্ট নয়।
সেভ দ্য চিলড্রেনের উপদেষ্টা ডা: গোলাম মোতাব্বির বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে শিশুদের পুষ্টিহীনতার হার ছিল ৬৬ শতাংশ। তা ২০১০ এর এক জরীপ অনুযায়ী কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অনুযায়ী যতটা অগ্রগতি হবার কথা ছিল সেই হিসেবে এই অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে আরও দ্রুত গতিতে এগুতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংস্থাটির তথ্যমতে বাংলাদেশ পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম এবং ৩৭ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় ওজন কম। জরীপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোতে প্রতি ৬টি পরিবারের মধ্যে অন্তত একটি পরিবার বলেছে শিশুদের খাবারের সংস্থান করতে গিয়ে তারা তাদের বিদ্যালয় যাওয়া বন্ধ করে কাজে লাগিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন যাবৎ শিশু মৃত্যুর হার এবং শিশুদের পুষ্টির হারে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, সরকারের পুষ্টি বিষয়ক বেশ কিছু কার্যক্রম চলছে তবে প্রকাশিত এই জরীপে সর্বশেষ চিত্র ফুটে ওঠেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন কোন সালের উপাত্তের উপর ভিত্তি করে এই তথ্য দেয়া হচ্ছে তা যাচাই করতে হবে। তার মতে শিশুদের ওজনের তুলনায় উচ্চতা কমে যাবার ব্যাপারে যা বলা হচ্ছে তা ২০০৭ সালের তথ্য ভিত্তিক।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সর্বশেষ উপাত্ত সংগ্রহের জন্যে যে কাজ চলছে তাতে ২০১২ সাল পর্যন্ত চিত্র পাওয়া যাবে৻ আর তার উপর ভিত্তি করেই নতুন পদক্ষেপ নেবে সরকার।
এদিকে জাতিসংঘের কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও বলছে গত বছরের প্রথম ৬ মাসে খাদ্যের দাম অনেক বেশি বেড়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, বাংলাদেশে জরীপকৃত ৮৭ শতাংশ ব্যক্তিই বলছে খাদ্যের অভাবই ইদানীং তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার বিষয়।